ঐকমত্যে পৌঁছালে গণপরিষদ ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করা সম্ভব: নাহিদ

প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৫ ২২:০৩ পিএম

গণপরিষদ নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করা রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর নির্ভর করবে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে প্রকৃতপক্ষে কাঙ্ক্ষিত সময়সীমার মধ্যে গণপরিষদ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে করা সম্ভব। নির্বাচনের সময়সীমার চেয়ে প্রেক্ষাপটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার বিকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির-এনসিপির আত্মপ্রকাশের পর প্রথম সাধারণ সভা শেষে জাতীয় নাগরিক কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় সাম্প্রতিক সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং নারী নিপীড়নকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে যথাযথ বিচারের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এনসিপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, নাগরিক পার্টির নারী সদস্যের টার্গেট করে সাইবার জগতে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, বুলিং চলছে। এক ধরনের হেনস্তার মধ্যে দিয়ে তাদের যেতে হচ্ছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুসারীরা এই কাজে বেশি যুক্ত রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। যাতে নারীরা রাজনৈতিক কাজে, দেশ গঠনের কাছে যুক্ত হতে না পারে, নিরুৎসাহিত করতে। তাদের মেন্টাল ট্রমার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সেখানে কিছু মিস কোড হয়েছে, ভুল অনুবাদ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি বলেছি— এ বছর নির্বাচন সম্ভব নয়, এভাবে কথাটা বলিনি। আমি বলেছিলাম, দেশের এখন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সেই পরিস্থিতিটা, পুলিশ যে নাজুক অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় থেকে নির্বাচন করাটা অনেক বেশি কঠিন হবে। এই পুলিশ প্রশাসন একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন ধরে নাই। সেই জায়গা থেকে বলেছি, আমাদের অবশ্যই নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। সেটার জন্য সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো, সামাজিক শক্তিকেও এগিয়ে আসতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে।

ওই সাক্ষাৎকারের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমি বলেছিলাম, আমাদের আর্থিক বিষয়ে সমাজের যে সচ্ছল মানুষ বা শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন; তারা মূলত আমাদের সহযোগিতা করেন। আমরা একটা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের দিকে যাচ্ছি। অনলাইন এবং অফলাইনকেন্দ্রিক। ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে কার্যালয় স্থাপনসহ ইলেকশন ফান্ডিং রিচ করব। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটা নিয়ে ভুল তথ্য এসেছে। এটা সংশোধনের জন্য অনুরোধ থাকবে।

নির্বাচনের জন্য এনসিপির মানসিকতা ও প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, যেকোনো নির্বাচনে যাওয়ার আগে আমরা বারবার বলে আসছি— আমরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার প্রক্রিয়া এবং জুলাইয়ের সংস্কারের সনদের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। তারপরে আমাদের নির্বাচনের দিকে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণপরিষদ নির্বাচন দেখতে চাই। এ মুহূর্তে নির্বাচনই এনসিপির একমাত্র দাবি নয়। আমরা দৃশ্যমান বিচার দেখতে চাই। ঐক্যমতে জুলাই সনদ, যেখানে সকল রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর থাকবে। জনগণ দেখতে পারবে কোন দল কোন সংস্কারের পক্ষে আছে- কোন দল বিপক্ষে আছে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ আমরা কার্যকর দেখতে চাই। জুলাই ঘোষণাপত্রের যে কথা ছাত্রদের পক্ষ থেকে উঠেছিলো তার বাস্তবায়ন দ্রুত সময়ে দেখতে চাই।

তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো কেন যেন নির্বাচনের কথা এলে নির্বাচন পেটানোর ভয়টা পান। আমাদের মাথায় কাজ করে, নির্বাচন হবে ক্ষমতায় যাবো। বিচারের দাবিতে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের উচিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ দেওয়া।

৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দল আত্মপ্রকাশের পর আমরা এখন নিবন্ধনের শর্তাবলির প্রতি গুরুত্বারোপ করছি, সাংগঠনিক বিস্তারে মনোযোগ দিয়েছি। রোজার পর এগুলো পুরোদমে চলবে। এরপর আমরা ভাববো। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা নিজেদের শক্তি পর্রক্ষিা করতে চাই, নিজেদের সক্ষমতার বলে দাঁড়াতে চাই। জোট বা প্রার্থীর বিষয়ে আমাদের অবস্থান ব্যক্ত করতে আরও সময় লাগবে।

বৈষম্যবিরোধী অথবা সমন্বয়ক পরিচয়ের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আর আগের জায়গা নেই। সেখান থেকে একটি ছাত্র সংগঠন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দল তৈরি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী বা সমন্বয়ক পরিচয়টা এখন আর এক্সিস্ট (অস্তিত্ব) করে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে, এই পরিচয়ে ব্যবহার করে কেউ যদি অপকর্ম করে তাহলে তারা যেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন।

এদিন এক প্রশ্নের জবাবে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, হাজারের উপর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এখনো আমাদের বাবারা-মায়েরা তাদের সন্তানের লাশ কোথায় দাফন করা হয়েছে সেটা খুঁজে বেড়াচ্ছেন। শতাধিক লাশ রায়ের বাজার কবরস্থানে বেওয়ারিশ দাফন করা হয়েছে। যে খুনির নির্দেশে এত বড় একটি হত্যাকাণ্ড হলো। ওই খুনিটার বিচার আমরা বাংলাদেশে দেখতে চাই।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সারাদেশের শহীদ ব্যক্তিদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের সম্মানে ১০ মার্চ (সোমবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। পরদিন ১১ মার্চ (মঙ্গলবার) রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে ইফতার পার্টি করবে দলটি।

এ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, এনসিপির প্রথম কর্মসূচি হিসেবে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের সম্মানে ১০ মার্চ (সোমবার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এনসিপির পক্ষ থেকে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সারা দেশের সব শহীদের পরিবার ও আহতদের সতস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়া আহ্বান জানাচ্ছি। দ্বিতীয় কর্মচি হলো- ১১ মার্চ (মঙ্গলবার) দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত থাকবেন বলে আমরা আশা করছি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, প্রধান সমন্বয়কারী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর