৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে এনসিপি, জোটের সিদ্ধান্ত ভোটের আগে

প্রকাশিত: ০৭ মার্চ ২০২৫ ০৯:০৩ এএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবকটি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারীদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। বিদ্যমান রাজনৈতিক ধারার বাইরে নতুন ধারার সূচনা করা দলটি কোনো দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট করার বিষয়টি ভাবছে না, বরং তাদের নেতৃত্বে কোনো দল জোট গড়তে আগ্রহী হলে বিবেচনা করা হবে।

এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, পবিত্র রমজানের মধ্যেই নিবন্ধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পাশাপাশি সারাদেশে দলের কাঠামো গড়ে তোলা হবে। ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ধরে সব আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। তবে প্রতিটি নির্বাচনের সময় জোট গড়ে নির্বাচন করার পথে রাজনৈতিক দলগুলো হাঁটলেও সেই ধারায় যুক্ত হওয়া-না হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ভোটের প্রক্রিয়া শুরু বা নির্বাচনি তফসিলের আগমুহূর্তে।

এনসিপি সূত্র জানায়, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক বা নির্বাচনি জোট করা, না করার সম্ভাবনা কম নতুন দলের। এক্ষেত্রে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো জোট গড়তে চাইলে বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে মধ্যমপন্থি রাজনীতির কাছাকাছি দলগুলো, ছোট হোক বা বড় হোক—তারা চাইলে এনসিপি জোট গড়তে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির অন্তত চারজন নীতিনির্ধারণী নেতা জানিয়েছেন, সারাদেশে দলের কাঠামো ঠিক করার পাশাপাশি সংসদীয় সব আসনেই একক প্রার্থী বাছাই করা হবে। সেই প্রক্রিয়া নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরুর সময় বা নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার আগে-পরে জোরালোভাবে সম্পন্ন করা হবে। এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে একমত হয়ে কোনো দল একসঙ্গে নির্বাচন করতে চাইলে সেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্ভাব্য সবকিছু সামনে রেখেই আগোচ্ছে এনসিপি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, সংসদীয় সব আসনেই এনসিপির দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি সামনে রেখে আমরা এগোচ্ছি। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে কারো জোটের অংশ হওয়ার ব্যাপারে কোনো চিন্তাভাবনা এনসিপির নেই। নির্বাচনের আগে অন্য মাঝারি বা ছোট দলগুলো আমাদের সঙ্গে জোট গড়তে চাইলে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সূত্রমতে, নতুন দলের গঠনতন্ত্র তৈরি, নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধন সম্পন্ন করা, রাজনৈতিক এজেন্ডা ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করা এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামো তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত গড়ে তোলা এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ রমজানের মধ্যে বা ঈদের পর পরই সম্পন্ন করা হবে। ঈদের পর গণপরিষদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রসংস্কারের কর্মসূচিভিত্তিক মাঠের রাজনীতিতে সোচ্চার হবে এনসিপি। সে গণরাজনীতিমুখী নানা কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচি নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছবে দলটি। এই ধারাবাহিকতায় চলবে নির্বাচনের প্রস্তুতিও।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, গতানুগতিক রাজনৈতিক ধারার দিকে আমরা অগ্রসর হচ্ছি না। এনসিপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা দখলের জন্য গড়া কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে, গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দল। আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ যেভাবে চাইবে, সেভাবে ভূমিকা রাখবে এনসিপি। দল হিসেবে আমাদের প্রার্থী বাছাই করা হবে আর জোট গড়া-না গড়ার বিষয়টি আপেক্ষিক। নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু হলে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিশাল জমায়েতের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। সেদিন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলেও দ্রুত সময়ে ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ৪ মার্চ সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধে একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রায়েরবাজারে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন শুরু করে এনসিপি।

ওইদিন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তরুণরাই রাষ্ট্র গঠন করবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তার করা হবে। সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে তাদের দল। এ ছাড়া শর্ত পূরণ করে নিবন্ধনের জন্য শিগগিরই আবেদন করা হবে নির্বাচন কমিশনে। এনসিপির প্রথম লক্ষ্য তৃণমূলে দলীয় কার্যক্রম বিস্তৃত করা। আমরা ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সব লড়াইয়ের আখলাককে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করব।

এনসিপি জানিয়েছে, ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এনসিপির বার্তায় বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) আগামী এক বছরের মধ্যে দলের গঠনতন্ত্র ও ইশতেহার প্রণয়ন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক বিস্তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কমিটির অনুমোদন দিয়ে ভূমিকায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে বাংলাদেশের নাগরিকরা মুক্ত হয়েছে। তবে শহীদ মিনারে ঘোষিত অভ্যুত্থানের এক দফা, তথা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর