শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ আখ্যা

কুড়িগ্রামের ডিসির পক্ষ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে অপপ্রচার

প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:০১ এএম

কুড়িগ্রামের ডিসির পক্ষ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে অপপ্রচার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহির মনোনয়নপত্র বাতিলকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ ও ‘হিন্দু কর্মকর্তার প্রতি হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—যা ঘটনাস্থলের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ গত ৪ জনুয়ারি রবিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ দিনে, কোনো ধরনের নথিপত্র যাচাই ছাড়াই ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহির মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। অভিযোগ রয়েছে, মনোনয়ন বাতিলের সময় প্রার্থীর পক্ষে উপস্থাপিত কাগজপত্র ও আইনগত ব্যাখ্যা শোনার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ব্যারিস্টার সালেহির কর্মী-সমর্থকেরা তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই প্রতিবাদে কোনো ধরনের সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর কিংবা কারো প্রতি শারীরিক হুমকির ঘটনা ঘটেনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবাদকারীরা শান্তভাবে কর্মসূচি শেষ করে স্থান ত্যাগ করেন।

তবে পরবর্তীতে ভারতের একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম—‘ইন্ডিয়া টুডে’ (India Today) এর অনলাই প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসকের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ঘটনাটিকে ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ এবং ‘হিন্দু কর্মকর্তাকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলা প্রশাসক হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় একটি প্রশাসনিক ও আইনগত বিরোধকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা বলছেন, এটি শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্যও ক্ষতিকর।

ব্যারিস্টার সালেহির সমর্থক খাজা মইনুদ্দিন বলেন,
“আমরা ডিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি। এখানে কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতন বা ধর্মীয় বিদ্বেষের প্রশ্নই ওঠে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহল মনে করছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ দুই দেশের গণমাধ্যম নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে এবং সত্য ঘটনা আড়াল করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করে।

এআরএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর