স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর পূর্ণ মন্ত্রী পেল কক্সবাজারবাসী

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০২ পিএম

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী পেলেন কক্সবাজারবাসী। সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি, আন্দোলন সংগ্রামের দীর্ঘপথ এবং নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে মন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন তিনি। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সেখানে সালাউদ্দিন আহমেদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার খবর চাউর হওয়ার সাথে সাথে পর্যটন শহর কক্সবাজার ও তার নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার -১ ( চকরিয়া- পেকুয়ায়) তাৎক্ষণিক আনন্দ মিছিল বের করে তার সমর্থকরা। জেলা জুড়ে চলছে আনন্দের বন্যা।

পর্যটন জেলা কক্সবাজারের দুই উপজেলা চকরিয়া ও পেকুয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসনে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আহমদ। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় নির্বাচন ও ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন হলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন সালাহউদ্দিন আহমদ।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াত ইসলামীর আব্দুল্লাহ আল ফারুখকে ৯৫ হাজার ৮শ ৩০ ভোটের বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করে চতুর্থবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজারের তৎকালীন চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মৌলভী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সালাউদ্দিন আহমদ। ১৯৭৭ সালে পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেকর্ডসংখ্যক নম্বর পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সালাহউদ্দিন আহমদ চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালের এইচএসসিতেও দারুণ ফলাফল করেন। ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সাথে ১৯৮৪ সালে এলএলবি (সম্মান) ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও ছিলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৮৫ সালের ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় (প্রশাসন) উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসাবে তিনি নিযুক্ত হন। এর আগে তিনি বগুড়া জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে আহ্বায়ক হিসেবে কক্সবাজার জেলা বিএনপির হাল ধরেন।

রাজনীতিতে সফল নেতা সালাউদ্দিন আহমদ দুইবার কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্মমহাসচিব মনোনীত হয়েছিলেন।

২০১৫ সালে দেশের রাজনীতির উত্তাল সময়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্বপালনকালে ঐ বছরের ১০ মার্চ গুমের শিকার হন সালাহউদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ ৬২ দিন পর ১১ মে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় ভারতের শিলংয়ে তার খোঁজ পাওয়া যায়। ভারতের শিলং থাকা অবস্থায় তিনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। শিলংয়ের কারাগারে বন্দী জীবন, নির্বাসনে থাকার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই করতে হয় তাকে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট প্রায় ১০ বছর পর নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।

স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী ছিলেন কক্সবাজারের সন্তান মাওলানা ফরিদ আহমদ। তিনি বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক দুই সংসদ সদস্য খালেকুজ্জামান ও সহীদুজ্জামানের পিতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর কক্সবাজার থেকে দায়িত্ব পাওয়া প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর