বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড: জাতিসংঘের অধীনে বিচার দাবি জামায়াতের

প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৫ ১৯:০৩ পিএম

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের অব্যাহতভাবে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং জাতিসংঘের অধীনে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৬ মার্চ রাতে সিলেট সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে শাহেদ নামে এক বাংলাদেশি যুবককে এবং গত ৮ মার্চ রাতে পঞ্চগড়ের ভিতরগড় সীমান্তে আল-আমিন (৩৬) নামে এক বাংলাদেশি যুবককে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি করে হত্যা করেছে। নিহত শাহেদ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী মঙ্গলপুর আলুবাড়ি গ্রামের মশাহিদ আলীর ছেলে এবং আল-আমিন পঞ্চগড় সদর উপজেলার হারিভাষা ইউনিয়নের জিন্নাতপাড়া গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, বিএসএফ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার পুটিয়া সীমান্তে বাংলাদেশী যুবক আল আমিনকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা সীমান্তে বাংলাদেশি যুবক বিল্লালকে নির্যাতন চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। ২০২৪ সালে বিএসএফ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস্য সিপাহি মোহাম্মদ রইস উদ্দীনসহ ১৯ জনকে হত্যা করেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক এসব হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায়ই বিনা কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসার জন্য ভারত বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও হত্যাকাণ্ড ক্রমাগতভাবেই বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিএসএফ ৫৮৮ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে। এ সময় আহত হয়েছে ৭৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালে সীমান্তে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। দেশবাসী মনে করে এইসব হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্র নীতিই দায়ী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সব সময়ই প্রতিবেশীদের কাছে বন্ধুসুলভ আচরণ কামনা করে। আমরা আশা করব ভারত সরকার সীমান্তে অনাকাক্সিক্ষত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করবে এবং বাংলাদেশি যুবক আল-আমিন ও শাহেদসহ সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে। সেই সঙ্গে আমরা জাতিসংঘের মাধ্যমে সব বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট জোর আহ্বান জানান তিনি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর