শবে কদরে বিশেষ নিয়মে নামাজ নিয়ে যা জানা জরুরি

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬ ২৩:০৩ পিএম

ফারসি ও আরবি মিশ্রিত শব্দগুচ্ছ শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের অর্থ অতিশয় সম্মানিত বা মহিমান্বিত রাত। পবিত্র এই রাতকে ভাগ্যের রাতও বলা হয়। এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি এটি (পবিত্র কুরআন) নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। তুমি কি জানো কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও অধিক উত্তম। এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে অবতীর্ণ হয়। (এ রাতে বিরাজ করে) শান্তি আর শান্তি- ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। (সুরা কদর, আয়াত: ১-৫)


পবিত্র রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর যেকোনো একটি রাত মূলত শবে কদরের রাত। বিভিন্ন হাদিস ও আলেমদের মতে, রমজানের ২৭ তারিখে শবে কদর, যা মূলত ২৬তম রোজার দিন রাতে। তাই শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোয় বেশি বেশি ইবাদত করা উত্তম।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদতে রাত্রি জাগরণ করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৫৪)

মহিমান্বিত এই রাতে বিশেষ দোয়ার কথাও হাদিসে এসেছে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (সা.) কোন রাতটি লাইলাতুল কদর, এ কথা যদি আমি জানতে পারি, তবে সে রাতে কি দোয়া করব? জবাবে নবীজি বললেন, তুমি বলবে-

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

বাংলা: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি তো খুবই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাই তুমি ভালোবাস। সুতরাং, ক্ষমা করে দাও আমাকে। (মেশকাত, হাদিস: ২০৯১; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)

এছাড়াও আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াগুলো করতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَالْكَسَلِ وَأَرْذَلِ الْعُمُرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

বাংলা: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বুখলি, ওয়াল কাসালি, ওয়া-আরদালিল-উমুরি, ওয়া-আযাবিল-কাবরি, ওয়া-ফিতনাতিল-মাখইয়াল মাম্মাতি।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কৃপণতা, অলসতা, বয়সের নিকৃষ্টতম সময় (বার্ধক্যের দৈন্য), কবরের আযাব এবং জীবন ও মৃত্যুর দুর্যোগ থেকে আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬২৯)

তবে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের রাতের নামাজ নিয়ে প্রায়সময়ই নানা কথা শোনা যায়। এই রাতে বিশেষ নিয়মে নামাজ পড়ার কথাও বলেন অনেকে। কেউ কেউ বলেন, এক রাকাতে সুরা কদর আর অন্য রাকাতে সুরা ইখলাস পড়তে হয়। কদরের রাতে আসলেই কি এমন কোনো নিয়ম আছে?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ’র মতে, অন্য যেকোনো নামাজের মতো শবে কদরের নামাজও একইভাবে পড়তে হয়। এমন কোনো বিষয় নেই যে, শবে কদরের নামাজে প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর নির্দিষ্ট কোনো সুরা কয়েকবার পড়তে হবে। একইভাবে দ্বিতীয় রাকাতেও নির্দিষ্ট সংখ্যকবার কোনো সুরা পড়তে হবে এমন কোনো বিষয় নেই। অন্য রাতের মতোই এই রাতে নামাজ আদায় করতে হয়।

জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের ভাষ্য, শবে কদরের রাতে কিছুটা লম্বা সময় নিয়ে নামাজ পড়া উত্তম। কারণ, যেকোনো রাতের নামাজ, তাহাজ্জুদের নামাজ লম্বা সময় নিয়ে পড়তে হয়। রুকু, সেজদা দীর্ঘ করতে হয়। তিলাওয়াতও ধীরগতিতে পড়া উত্তম। তবে যেকোনো সুরা দিয়েই দুই রাকাত করে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের নামাজ পড়া যায়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর