ঢাবির তদন্ত প্রতিবেদন

জুলাই বিপ্লবে হামলাকারীর নাম না থাকায় ক্ষোভ

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৫ ২২:০৩ পিএম

জুলাই বিপ্লবে হামলাকারী শিক্ষার্থীদের শনাক্তের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)। নানা তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে অবশেষে প্রতিবেদন দিয়েছে ‘সত্যানুসন্ধান কমিটি’। এতে যেসব ছাত্রলীদের নাম এসেছে তাদের বাইরে রয়েছে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া নেতাকর্মী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নাম।

গত বছরের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ঢাবির ১২৮ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে তদন্ত কমিটি। ইতোমধ্যে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তালিকা প্রকাশের পর বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলার দুপুরে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রতিবেদনে ১৫ জুলাই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর সরাসরি নৃশংস হামলা, আন্দোলনে নারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, আন্দোলনকারী সন্দেহে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পেটানো, ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আহত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, ১৪ জুলাই রাতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের হতে বাধা দেওয়াসহ শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় সক্রিয় অংশ নেওয়ার নানা তথ্য উঠে এসেছে।

নারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা : নারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলার বিবরণে পাওয়া যায় শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদের বিরুদ্ধে। তিনি ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী ছিলেন। নারী শিক্ষার্থীদের উপর সরাসরি হামলায় জড়িত ছিলেন তালিকার ছয়জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। এ ছাড়া তালিকায় নাম থাকা প্রায় সব সাধারণ শিক্ষার্থীর উপর হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল।

ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে যা এসেছে : নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বিষয়ে বিবরণীতে উঠে আসে ১৫ জুলাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন ছিল। এছাড়া হামলায় সরাসরি উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিষয়েও একই বিবরণী তুলে ধরা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ছিল ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের উপর হামলার পরিকল্পনাকারীদের একজন। হামলায় সরাসরি অংশ নিয় গণমাধ্যমে স্বীকারোক্তিও প্রদান করেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।

ঢাবি ক্যাম্পাসের বাইরে হামলা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও সরকারি বাঙলা কলেজের আক্তার হোসেন রুমন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন ও হোসাইন মোহাম্মদ সোহান, বহিরাগত রিজভী আহমেদ খোকা, কুয়াকাটা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী রুবেল খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন সানিম, ছাত্রলীগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান পিয়াস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং ইউনিটের সভাপতি মাহমুদুল হাসান আকাশের নামও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ : হামলায় সরাসরি অংশ নিলেও ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, বাকি হলগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামসহ হামলায় অংশ নেওয়া অনেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নাম তালিকায় না আসায় বিক্ষোভ করেছেন ঢাবির শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক হামজা মাহবুব নিজস্ব ফেসবুক পোস্টে বলেন, এই তালিকায় জহুরুল হলের ডাইনিংয়ের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া নারী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে করে পেটানো জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা নেই। এই তালিকায় জহুরুল হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, ক্যাম্পাসের রিনোউনড মাদক ও অস্ত্র কারবারি সাকিবুর রহমান সায়েম নেই। এই তালিকায় ‘চালাইদেন’ পরিভাষার জনক জহু হলের হাফিজুর রহমান নেই। জগন্নাথ হলের ভবতোষ নামে মাত্র একজন আছেন তালিকায়, আর কারো নাম নেই।

তিনি আরো বলেন, আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দুটা মামলায় প্রায় ৬০০ জনের বিরুদ্ধে প্রমাণাদিসহ মামলা করেছিলাম। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি নাকি মাত্র ১২৮ জনকে খুঁজে পেয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সত্যানুসন্ধান কমিটি আমলে নেওয়ার পর পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সহিংস ঘটনায় জড়িতদের তথ্য চেয়ে চিঠি দেবে ‘অধিকতর তদন্ত কমিটি’। পরে এই কমিটি প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে খুব শীঘ্রই তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করবে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর