বিশ্বকাপের ফাইনালে ইরানের নাম!
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট নিশ্চিত হওয়ার পর ফুটবল বিশ্বের সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মহারণ। ঠিক তখনই ফুটবল অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে আরেক খবর, বিশ্বকাপের ফাইনালে থাকছে ইরান! যে দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল, তারা আবার কীভাবে পৌঁছে গেল ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে?
চমকপ্রদ এই খবরের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ, ফুটবলীয় সমীকরণ আর মাঠের বাইরের ভূ-রাজনীতি।
অথচ এবারের বিশ্বকাপে ইরানের মূল ফুটবল দলটির যাত্রা মোটেও সুখকর ছিল না। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিলেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে চরম নাটকীয়তার পর এশিয়ার এই পরাশক্তিকে চোখের জলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল।
সেমিফাইনালের আসর থেকে যখন ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড বিদায় নিল, তখন ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা ফাইনালের রেফারি নির্ধারণে এক চরম সংকটের মুখে পড়েন। ফাইনালে ইউরোপের দেশ স্পেন থাকায় কোনো ইউরোপীয় রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া বিতর্কের জন্ম দিতে পারত। আবার আর্জেন্টিনার উপস্থিতির কারণে লাতিন আমেরিকার রেফারি নিয়োগ করাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার চিরন্তন ফুটবলীয় বৈরিতার কারণে ব্রাজিলের উইলটন পেরেইরা সাম্পাইওকে ফাইনাল থেকে সরিয়ে রাখা হয়।
ঠিক এই জটিল সমীকরণেই ভাগ্য খুলে যায় ইরানের। জন্মসূত্রে ইরানি হলেও আলিরেজা ফাগানি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব নিয়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রতিনিধিত্ব করছেন। ফলে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের এই বিশ্বযুদ্ধে তিনি হয়ে ওঠেন ফিফার ইতিহাসের সবচেয়ে নিখুঁত ও নিরপেক্ষ বিকল্প।
অবশ্য ফাগানির এই ফাইনালের টিকিট পাওয়ার রাস্তাটি মোটেও সহজ ছিল না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর গুঞ্জন অনুযায়ী, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনা ফাগানির এই সুযোগ কেড়ে নিতে পারত। কিন্তু মাঠের রেফারিংয়ে ফাগানির যে আকাশচুম্বী প্রোফাইল, তার সামনে কোনো রাজনৈতিক জটিলতাই টিকতে পারেনি। এর আগে অলিম্পিক ফাইনাল এবং একাধিক ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল সফলভাবে পরিচালনার অভিজ্ঞতা ফাগানিকে এই পদের জন্য অনবদ্য করে তোলে।
আগামী রোববার যখন কোটি কোটি দর্শক বিশ্বজয়ের ফাইনাল দেখতে চোখ রাখবেন, তখন মাঠের ২২ জন মহাতারকাকে সামলানোর সর্বময় ক্ষমতা থাকবে একজোড়া ইরানি চোখের ওপর। ফুটবলাররা না পারলেও, মাঠের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ফাগানির এই উপস্থিতি ইরানের ফুটবল ইতিহাসের জন্য এক অনন্য এবং অবিস্মরণীয় গৌরব।
এমএসএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: