তর্ক-বিতর্ক করতে গিয়ে যেন স্বৈরাচার সুযোগ পেয়ে না যায়: তারেক রহমান

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:০২ পিএম

সংস্কার নিয়ে অযাচিত আলোচনায় মূল সমস্যা আড়াল হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

খুলনা মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজ সোমবার দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তারেক রহমান বলেন, তর্ক-বিতর্ক করতে গিয়ে এমন কিছু যেন না হয়, যাতে স্বৈরাচার কিংবা দেশের ভালো যারা চায় না, তারা সুযোগ পেয়ে যায়। সংস্কার নিয়ে যদি আমরা অযাচিত আলোচনা করতে থাকি, তাহলে রাষ্ট্রের মূল সমস্যাগুলো আড়াল হয়ে যেতে পারে। সংস্কার নিয়ে অযাচিত আলোচনা না করে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের সবকিছু ধ্বংস করে স্বৈরাচার পালিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া একটা কথা বলেছিলেন, এই স্বৈরাচার সবকিছু ধ্বংস করে দেশ থেকে পালিয়ে যাবে। তার বহু বছর আগের বলা সেই কথা আজ পরতে পরতে সত্য হয়েছে। স্বৈরাচার লুটপাট করে পালিয়ে গেছে, দেশকে ধ্বংস করে দিয়ে পালিয়ে গেছে।

তারেক রহমান বলেন, আজকে আমরা সংস্কারের কথা বলেছি। কিন্তু সংস্কার নিয়ে যদি প্রতিনিয়ত শুধু অবান্তর আলোচনা করতে থাকি, তাহলে আমাদের যে মূল কাজগুলো অর্থাৎ দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা, সেটা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সমস্যার সমাধান হোক; সেটি নষ্ট রাস্তাঘাট ঠিক করার সমস্যার সমাধান হোক; আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাব্যবস্থা, কৃষকদের কৃষিব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা যেটাই হোক না কেন—যুক্তরাজ্যের মতো দেশের যদি ৭৭ বছর লাগে তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে—আমাদের দেশের কিন্তু এর ভেতরেই ৫০ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। আমরা হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলতা বা সফলতার দ্বারপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছেছি। কিন্তু এখনো সম্পূর্ণভাবে সফল হতে পরিনি। এখনো সামনে অনেক কাজ বাকি আছে এবং এই যে কাজগুলো বাকি আছে সেই কাজগুলো আমাদেরকে করতে হবে। এই দেশকে যদি আমাদেরকে গড়ে তুলতে হয়, এই রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে যদি পুনর্গঠন করতে হয়।

'একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে, বিশেষ করে গণতন্ত্রের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সবাইকে অব্যাহতভাবে চেষ্টা করতে হবে যাতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা যদি বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ যে খাদের কিনারে চলে গেছে, সেখান থেকে উঠিয়ে আনতে সক্ষম হবো।'

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আজ আমরা দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা করছি। দলকে গণতান্ত্রিকভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের হাজারো নেতাকর্মী খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, আমাদের লাখো মানুষ বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে, বিভিন্ন গায়েবি মামলা, মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রতিনিয়ত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে কেন? সেই একটি কারণ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এখন বলতে পারেন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করলে কী হবে?

'দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করলে দলের ভিত্তি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনই দল পরিচালনার দায়িত্ব যখন ধীরে ধীরে সঠিক ব্যক্তিদের কাছে ফিরে যাবে, তারা দলকে নেতৃত্ব দিলে দল সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারবে। ঠিক একইভাবে দেশের ভেতরে যদি আমরা গণতান্ত্রিক চর্চা করি, ভোটের চর্চা করি তাহলে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের কথা বলবে, দেশের সমস্যার কথা বলবে।'

তিনি আরও বলেন, অতীতে কী হয়েছে আমরা দেখেছি, কীভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে, কীভাবে মানুষের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন হয়েছে। আমাদের বহু সহকর্মীকে আমরা হারিয়েছি। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টে আমরা দেখেছি কীভাবে নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন হয়েছে। কীভাবে এক হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন আজকের এই মুক্ত পরিবেশ উপহার দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদেরকে থেমে থাকলে চলবে না, সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

দেশের মধ্যে স্থিতিশীলতা আনতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বাজার সিন্ডিকেটের দিকে নজর দিতে হবে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই কাজগুলো যদি না করি তাহলে এই দেশকে রক্ষা করা যাবে না।

বিএনপি ক্ষমতায় গেল নারী উন্নয়ন, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য খাতে কী কী করবেন তা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। অন্তর্বর্তী সরকারকে এসব বিষয়ে নজর দেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। গণতন্ত্র যত চর্চা হবে, তত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ কারণেই বিএনপি দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতা নির্বাচিত করছে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান। সকাল সাড়ে ১০টায় সম্মেলন শুরু হয়। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে রঙ-বেরঙয়ের ক্যাপ-টি শার্ট পরে ও প্লাকার্ড হাতে আসেন নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এ সম্মেলন হয়।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, শামীমুল ইসলাম শামীম, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, বিএনপি নেতা সৈয়দা নার্গিস আলী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সদ্যনির্বাচিত সভাপতি শফিকুল আলম মনা। সাংগঠনিক প্রতিবেদন পড়ে শোনান সদ্য নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর