সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬ ১০:০৭ এএম

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

গত বছরের মতো এবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টাকারী দেশের তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গত কয়েক বছর ধরেই এই তালিকায় এই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ২০২৬ সালে এসে ইতালির পাশাপাশি সাগরপথে গ্রীসে প্রবেশের তালিকাতেও এখন শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ, যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

এ বছরের মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রীসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়, তাদের ১২ জনই সুনামগঞ্জের। ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক থেকে ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশিদের নিয়ে রওনা হয় একটি নৌকা। দিক হারিয়ে ছয় দিন খাদ্য ও পানিশূন্য অবস্থায় ভেসে ছিল নৌকাটি। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপরও এমন মৃত্যুযাত্রা থামেনি।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এভাবে ইতালি ও গ্রীসে প্রবেশ করতে গিয়ে লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি থেকে অসংখ্য বাংলাদেশি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এত কিছুর পরও ইউরোপের স্বপ্নে লিবিয়া যাওয়ার এই প্রবণতা থামছে না।

ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্সের তথ্যের বরাত দিয়ে ব্র্যাক জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৪ হাজার ২৪৯ জন বাংলাদেশি একইপথে ইতালি প্রবেশ করেছেন। একই সময়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রীসে গেছেন ৩ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বলছে, এভাবে যারা ইউরোপে যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ বাংলাদেশের অন্তত ১০-১২টি জেলার মানুষ এভাবে ইউরোপে যেতে মরিয়া। এসব ক্ষেত্রে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতারিত বা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা দেশে ফিরে মামলা করলেও মূল আসামিরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবপাচারসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মানবপাচার আইনে ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে। পুরোনো মামলাসহ ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০৬টি মামলা বিচারাধীন এবং ১ হাজার ৯৭৮টি মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ এসব মামলার তদন্ত করছে।

অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত কয়েক বছরে নতুন এক সংকট হয়ে উঠেছে সাইবার স্ক্যাম। মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনে যেমন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, তেমনি বাংলাদেশের অনেক মানুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গিয়ে সাইবার স্ক্যামের শিকার হচ্ছেন। ব্র্যাকের এক গবেষণা বলছে, বিদেশে চাকরির কথা বলে নেওয়া হলেও তাদের ৯৮ শতাংশ কোনো চাকরি পাননি। বরং তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ৯০ শতাংশকে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতিমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ এতে রাজি না হলে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পালিত হবে আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩০ জুলাইকে আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় "প্রতারণার ফাঁদে বন্দি"।

প্রতারণার ফাঁদ, চাকরির প্রলোভন থেকে সাইবার দাসত্ব

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে যাওয়া কিংবা সাইবার স্ক্যামের ঘটনায় এখন পাচারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে। ইউরোপে যাওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে বিভিন্ন গ্রুপ খোলা হচ্ছে। আবার শতাধিক ফেসবুক গ্রুপে সাগরপথে ইতালিতে পৌঁছানো নৌকার ছবি ও যোগাযোগ নম্বর দিয়ে অন্যদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে চাকরির নানা প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। শুধু প্রলোভন বা প্রতারণা নয়, জোর করে বন্দি করে অনেককে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধকেন্দ্রকে বলা হচ্ছে স্ক্যাম সেন্টার। এসব সেন্টারে নতুন ধরনের এক দাসত্ব তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে গত দেড় বছরে অনেক তরুণ-তরুণী বৈধ চাকরির আশায় কম্বোডিয়া কিংবা মিয়ানমারের এসব সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকা পড়েছেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই কোনো চাকরি পাননি। অনেককে স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজে যুক্ত করা হয়েছে। কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে এ বছরের জুন মাসেই সেখান থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ভুক্তভোগী দেশে ফিরেছেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে।

ফিরে আসা ব্যক্তিদের ৯৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তারা কোনো চাকরি পাননি। ৯০ শতাংশ বলেছেন, জোর করে প্রতারণা বা স্ক্যামের কাজে তাদের যুক্ত করা হয়েছিল। ৮৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা ছিল না। ৮৬ শতাংশের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২৭ শতাংশ ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ৩৮ শতাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

ফিরে আসা বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদলকে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে এবং আরেকদলকে ভ্রমণ ভিসায় কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। এরপর সেখানে থাকা কিছু বাংলাদেশি নাগরিক তাদের চীনা-নিয়ন্ত্রিত স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেন। এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার পরিচয় ছিল না আমার নাম; আমার পরিচয় ছিল একটি কোড। তিনি জানান, বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বিদেশে রওনা হওয়ার আগে তাকে একটি কোডওয়ার্ড মুখস্থ করিয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয়, ইমিগ্রেশনে নিজের নাম নয়, সেই কোড বলতে হবে। পরে তিনি বুঝতে পারেন, এটি ছিল সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের একটি গোপন সংকেত।

এক ভুক্তভোগী জানান, একটি রিক্‌রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্বোডিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়। এ জন্য তার কাছ থেকে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং বিএমইটির ছাড়পত্রও সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছে তিনি মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসা পান। বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রহণ করে বাংলাদেশি দালালরা। পরে আর কোনো বৈধ কর্মভিসা দেওয়া হয়নি। বরং টাকার বিনিময়ে তাকে একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত টার্গেট পূরণ করতে না পারলে মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম কম্পাউন্ডের ভেতরেই নির্যাতনের জন্য আলাদা টর্চার সেল ছিল। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে স্ক্যাম চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলে সেখান থেকে তারা মুক্তি পান।

এর আগে, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের ভয়াবহ এক রূপ। কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভূয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। কেউ রাজি না হলে বা নির্ধারিত টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এ কারণে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে চাকরির সত্যতা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভিসার ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি।

ব্র্যাক জানিয়েছে, এর আগে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী মায়াওয়াডি এলাকা হয়ে জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশিরা, লিবিয়ায় ভয়াবহ নির্যাতন

ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি। এই পথটি সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুট নামে পরিচিত। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই পথে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এভাবে প্রবেশ করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি ইতালি বা গ্রীসে পৌঁছানোর পথে নির্যাতন, জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকে রাখার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। অনেকেই শেষ পর্যন্ত লিবিয়ায় আটক হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। গত ছয় বছরে প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশিকে এভাবে লিবিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইতালি বা গ্রীসে যাওয়ার চেষ্টা করা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা। যাত্রাপথ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে মিসর, দুবাই বা তুরস্ক হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ লিবিয়ায় গেছেন। ভালো চাকরির প্রলোভন দেখানো হলেও ৭৫ শতাংশ কোনো চাকরি বা কাজ পাননি। উল্টো তাদের বন্দিদশায় থাকতে হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ শতাংশ ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন এবং ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ৬৯ শতাংশ মুক্তভাবে চলাফেরার স্বাধীনতা হারিয়েছেন। অধিকাংশই পর্যাপ্ত খাবারও পাননি। এত কিছুর পরও ইউরোপের স্বপ্নে লিবিয়া যাওয়ার এই প্রবণতা থামছে না।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা শীর্ষে রয়েছে। এবার গ্রীসে যাওয়ার দিক থেকেও বাংলাদেশ প্রথম। এভাবে ইতালি বা গ্রীসে যাওয়ার পথে অনেক প্রাণহানি ঘটছে। পাশাপাশি লিবিয়ায় বহু মানুষ ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। ক্যাম্পে বন্দি রেখে তাদের নির্যাতন করা হয় এবং পরে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। বিদেশে কাজ বা শ্রম অভিবাসনের নামে এই মানবপাচার অত্যন্ত ভয়াবহ সমস্যা। পাচারকারীরা এখন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছে, কিন্তু সেই তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পিছিয়ে রয়েছে। আবার পাচারসংক্রান্ত মামলাগুলোরও যথাযথ বিচার হচ্ছে না। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এমএসএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর