পলাতক আইজিপি বেনজীর ও নাফিসা কামালের প্রতিষ্ঠান থেকেই কেনা হল বডিওর্ন ক্যামেরা!

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:০২ পিএম

পলাতক আইজিপি বেনজীর ও নাফিসা কামালের প্রতিষ্ঠান থেকেই কেনা হল বডিওর্ন ক্যামেরা!

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কন্যা নাফিসা কামালের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট টেকনোলজিস’ থেকে পুলিশের জন্য বডিওর্ন ক্যামেরা ক্রয় নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশের জন্য এই ক্যামেরাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও পণ্যের মান নিয়ে খোদ পুলিশের ভেতরেই অসন্তোষ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
 
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্মার্ট টেকনোলজিস প্রায় একচেটিয়াভাবে পুলিশের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত টেন্ডার পেয়ে আসছিল। সেই ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও এই প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে আবারও বডিওর্ন ক্যামেরা সরবরাহের সুযোগ পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে যখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, নির্বাচন সংক্রান্ত সব ধরনের ক্রয় কার্যক্রম স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইউএনডিপির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
 
গত বছরের ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রায় ২৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা যায় এবং ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল কিংবা সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পরপরই সোর্স মানির অর্থ ব্যবহার করে গোপনে চীন থেকে ক্যামেরা আমদানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার বড় একটি অংশ এসেছে স্মার্ট টেকনোলজিসের মাধ্যমে।
 
এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্মার্ট টেকনোলজিস ছাড়াও দাহুয়া, টিডিটেক, কেডাকম ও অকজন এই চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম সামনে এসেছে। তবে দাহুয়া ক্যামেরা সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ক্যামেরাগুলো মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও পুলিশ সদর দপ্তরের টেলিকম বিভাগ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
 
এই গোপনীয়তা ও তথ্য গোপন করার প্রবণতা বড় ধরনের দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে তারা আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দোসররা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন বিতর্কিত সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা করে থাকতে পারে। কারণ নির্বাচনের সময় যদি এসব বডিওর্ন ক্যামেরা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ না করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মারাত্মক চাপে পড়বে।
 
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদ হোসেন জানিয়েছেন, ক্যামেরাগুলো ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে পৌঁছেছে, তবে এর বেশি তথ্য তিনি দিতে পারেননি। অথচ শুরু থেকেই ক্যামেরার প্রকৃত সংখ্যা, একক মূল্য এবং মোট ব্যয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে, যা একটি জাতীয় নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এআরএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর