হাদি হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা, অভিযোগপত্রে জানাল ডিবি

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:০১ এএম

হাদি হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা, অভিযোগপত্রে জানাল ডিবি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্যের বিবরণ, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র, বুলেট ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি জড়িত দুজনসহ পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী)। সরাসরি গুলি করেন ফয়সাল করিম এবং তাকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। এই তিনজন বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছেন।

ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি মুক্তি মাহমুদ তাদের আশ্রয় দেন এবং অস্ত্র সংরক্ষণে সহযোগিতা করেন। আসামিদের সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করেন ফিলিপ স্নাল। এছাড়া নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ান দিও ও সঞ্জয় চিসিম হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে পালাতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন ও অস্ত্র স্থানান্তরের কাজে জড়িত ছিলেন। তার মা হাসি বেগম এবং বোন জেসমিন আক্তার আসামিদের আশ্রয় ও অস্ত্র সংরক্ষণে সহযোগিতা করেন।

ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া পালিয়ে যাওয়ার খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান। শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সংগ্রহ করে নরসিংদীতে তার ঘনিষ্ঠ মো. ফয়সাল নামে একজনের কাছে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ফয়সালের বন্ধু মো. কবির মোটরসাইকেল সরবরাহ করেন এবং মারিয়া আক্তার লিমা হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে ডিবি জানিয়েছে।

ডিবি জানায়, ভবিষ্যতে নতুন কোনো তথ্য বা সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন। সেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে তাকে গুলি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এআরএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর