বিমানবন্দর ও রেলপথে অভিযান: ভায়াগ্রা-নিষিদ্ধ ক্রিমসহ কোটি টাকার পণ্য জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১০ এএম

অভিযানে ভায়াগ্রা-নিষিদ্ধ ক্রিমসহ কোটি টাকার পণ্য জব্দ করেছে এনবিআর

বিমানবন্দর ও ডাক-রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য চোরাচালানের নতুন কৌশলের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কমলাপুর রেলওয়ে ফরেন পোস্ট অফিসে পৃথক অভিযানে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ ওষুধ, আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, ব্যবহৃত মুঠোফোন ও মদজাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, অভিযানে বিমানবন্দর থেকে ডাক বাছাই কেন্দ্র হয়ে রেলপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসে (জিপিও) পণ্য পাঠানোর একটি পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভায়াগ্রাসহ বিভিন্ন ওষুধ আনার ঘটনাও ধরা পড়েছে।

বিমানবন্দরে ৫৫ কেজির বেশি ওষুধ জব্দ

১৪ অক্টোবর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ইটি৬৮০ ফ্লাইটের যাত্রী জাহাঙ্গীরের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ আটক করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভায়াগ্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছাড়া ইনসুলিনের মতো সংবেদনশীল ওষুধ পরিবহন জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

কমলাপুরে নিষিদ্ধ ক্রিম ও ল্যাপটপ

১৩ অক্টোবর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৮৭ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ ‘গৌরি ক্রিম’ এবং ৩১টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যগুলো আকাশপথে দেশে আসার পর বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র ও কমলাপুরের আরএমএস সেন্টার হয়ে চট্টগ্রাম জিপিওতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এ ঘটনায় বিমান, ডাক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বিত নজরদারির বিষয়টি সামনে এসেছে।

সিগারেট, কসমেটিকস ও মদ জব্দ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৩ অক্টোবর বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ এফই মডেলের মুঠোফোনসহ বিভিন্ন মোবাইল, ২৮৮ কার্টন সিগারেট, ৪৬ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১৭ লিটার মদ জব্দ করা হয়।

পরদিন থাই এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ারসহ বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ ও পরিত্যক্ত কার্টন থেকে আরো ২৪৩ কার্টন সিগারেট, ৩৮ কেজি কসমেটিকস এবং ১৮ দশমিক ১৮ কেজি গৌরি ক্রিম উদ্ধার করা হয়।

দুই দিনের অভিযানের সার্বিক হিসাবে ৫৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, কমলাপুর থেকে ৭ হাজার ৭৮৭ পিস গৌরি ক্রিম, বিমানবন্দর থেকে ৬৪ দশমিক ১৮ কেজি নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, ৬৮ কেজি অন্যান্য কসমেটিকস, ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ ৫৫ দশমিক ৮ কেজি ওষুধ, ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ৩২টি ল্যাপটপ, তিনটি মুঠোফোন এবং ১৭ লিটার মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দের কথা জানানো হয়েছে।

জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলেছে, শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি অবৈধ ওষুধের বাণিজ্য ঠেকাতে বিমানবন্দর, ডাক বাছাই কেন্দ্র ও রেলপথে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

LIMON

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর