খুলে দেয়া হলো তেহরান সহ ইরানের ৬ এয়ারপোর্ট
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচলে স্বস্তির আভাস মিলেছে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মূল্যায়ন শেষে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে দেশটির আকাশসীমা আংশিকভাবে আবারও উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ‘আগ্রাসন’ ঘিরে সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আকাশপথ বন্ধ করে দেয়ার পর বিষয়টি জাতীয় সিভিল-সামরিক সমন্বয় কমিটি (সিএমসি)-তে পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতে ‘নোটিস টু এয়ারম্যান’ (নোটাম) জারি করে আকাশসীমার একটি অংশ এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর খুলে দেয়া হয়েছে। খবর তাসনিম নিউজের।
ইরানের পূর্ব দিকের আকাশসীমা এখন আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ফ্লাইটের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে, ফলে বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। একই সঙ্গে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর আবারও চালু করা হয়েছে। তেহরান ছাড়াও যেসব শহরের বিমানবন্দর পুনরায় সচল হয়েছে, সেগুলো হলো-মাশহাদ, বিরজান্দ, গোরগান ও জাহেদান।
অ্যাসোসিয়েশন অব ইরানি এয়ারলাইনস জানিয়েছে, বিমানবন্দর খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এয়ারলাইনসগুলো তাদের ফ্লাইট সূচি পুনর্বিন্যাস শুরু করেছে। অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়াও দ্রুত এগোচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, যাত্রীদের জন্য ইতোমধ্যে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, সামরিক ও বেসামরিক খাতের কারিগরি ও অপারেশনাল প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করা হবে, যাতে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা যায়।
উল্লেখ্য, আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের অধিকাংশ আকাশপথ বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন এবং পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। তবে পূর্ব দিকের আকাশসীমা উন্মুক্ত হওয়ায় এখন ট্রানজিট ফ্লাইটগুলো তুলনামূলক নিরাপদ রুট ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
এআরএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: