পৃথিবীর হিমবাহগুলো গলছে অবিশ্বাস্য গতিতে

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:০২ পিএম

বিশ্বের হিমবাহ থেকে বরফ গলার হার গত দশকে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আগামী বছরগুলোয় বরফ গলার এ হার পূর্বের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত হতে পারে। এ কারণে বৃদ্ধি পেতে পারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্বের হিমবাহ থেকে বরফ গলার হার গত দশকে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আগামী বছরগুলোয় বরফ গলার এ হার পূর্বের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত হতে পারে। এ কারণে বৃদ্ধি পেতে পারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গত বুধবার নেচার সাময়িকীতে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি সমন্বিতভাবে করেছে পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড গ্লেসিয়ার মনিটরিং সার্ভিস, এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান আর্থওয়েভ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হিমবাহ গলার হার গত দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে যে হারে হিমবাহ গলেছে, তার চেয়ে ২০১২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি গলেছে।

জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিশায়েল জেম্প গবেষণা প্রতিবেদনটির সহলেখক। তিনি বলেন, ফলাফলগুলো অত্যন্ত মর্মান্তিক, যদিও পুরোপুরি আশ্চর্যজনক নয়। ছোট হিমবাহযুক্ত অঞ্চলগুলো দ্রুত হিমবাহ হারাচ্ছে। অনেকগুলো ‘বর্তমান শতাব্দীতে টিকে থাকবে না’। আমরা এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ পূর্বধারণার চেয়ে অধিক মাত্রায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হব।

তিনি জানান, হিমবাহের ক্ষয়ের কারণে মধ্য এশিয়া ও মধ্য আন্দিজ অঞ্চলে মিঠাপানি সরবরাহের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

গবেষকরা বলছেন, সব মিলিয়ে চলতি শতাব্দীতে হিমবাহগুলোর ৫ শতাংশ গলেছে। তবে অঞ্চলভেদে এ গলার হার কমবেশি, যেমন অ্যান্টার্কটিকায় ২ শতাংশ হিমবাহ গলেছে আর ইউরোপীয় আল্পসে গলেছে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিবছর গড়ে ২৭ হাজার ৩০০ কোটি টন বরফ গলছে, যা বিশ্ববাসীর ৩০ বছরে ব্যবহৃত পানির পরিমাণের সমান।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর