পুরোনো গঠনতন্ত্রেই বিসিবির নির্বাচন!

প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৫ ১০:০৪ এএম

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিসিবির গঠনতন্ত্র সংস্কার কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট থেকে পরিচালক সংখ্যা ১২ থেকে কমিয়ে চারজনে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তাতে বেঁকে বসেন ঢাকার ক্লাব কর্মকর্তারা, দেন লিগ বয়কটের হুমকি। তাদের দাবি ছিল পরিচালক সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৬ করা হোক। শেষ পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ও ঢাকার ক্লাব কর্মকর্তাদের আলোচনার পর স্থগিত করা হয় বিসিবির গঠনতন্ত্র সংস্কার।

পরে জানানো হয়- গঠনতন্ত্র সংস্কার কমিটি পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হবে। পাশাপাশি সব স্টেকহোল্ডারকে সম্পৃক্ত করে গঠনতন্ত্র সংস্কার করা হবে। তবে ওই ঘটনার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিসিবি। নির্বাচনের আগে গঠনতন্ত্র সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে এমন আশাও প্রায় শূন্যের কোঠায়। তাতে খানিকটা আন্দাজ করা যাচ্ছে- পুরোনো গঠনতন্ত্রেই হবে বিসিবির আগামী নির্বাচন। কারণ, পরবর্তী নির্বাচনের জন্য বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পরিষদ সময় পাবে পাঁচ থেকে ছয় মাস। এই সময়ের মধ্যে গঠনতন্ত্র সংস্কার ও কাউন্সিলর তালিকা প্রণয়ন করা কঠিন হয়ে পড়বে বিসিবির জন্য।

বিসিবির বাতিল হওয়া প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ক্রিকেট কমিটি ফর ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) অধীনে থাকা কাউন্সিলর সংখ্যা ৭৬ থেকে কমিয়ে ৩০-এ আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এ ছাড়া বিসিবিতে ঢাকার ক্লাবগুলো থেকে পরিচালক সংখ্যা ১২ থেকে কমিয়ে চারজনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব ছিল। তাতেই মূলত ফুঁসে ওঠে ঢাকার ক্লাব কর্মকর্তারা। তারা লিগ বয়কটের হুমকি দেন অচল করে দেন ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট। পরে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে ঢাকার ক্লাব প্রতিনিধিদের আলোচনার পর কাটে অচলাবস্থা। বাতিল করা হয় গঠনতন্ত্র সংস্কার কমিটি।

গত ২৩ জানুয়ারি হওয়া বিসিবি সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব আনাম জানান, নতুন করে গঠনতন্ত্র সংস্কার কমিটি করা হবে। সেখানে বিসিবির সব স্টেকহোল্ডারকে রাখা হবে। পাশাপাশি সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি হবে সংস্কার কমিটি। ওই ঘোষণার পর গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে আর কোনো কাজ হয়নি। ঘোষণাতেই আটকে আছে বিসিবির গঠনতন্ত্র সংস্কার কমিটি।

বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্র নিয়ে খুব বেশি আপত্তি নেই ঢাকার ক্লাবগুলোর। মূলত সে কারণে গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে আর আলোচনায় এগোয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আগামী মে মাসের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে ঢাকার ক্লাব প্রতিনিধিরা। আমার দেশকে আবাহনীর কর্মকর্তা ও ক্রিকেট সংগঠক জিএস হাসান তামিম জানান, ক্লাবগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। আগামী নির্বাচনের আগে গঠনতন্ত্র সংস্কার হবে কি না, সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি বিসিবি থেকে। জিএস হাসান তামিম বলেন, ‘প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র বাতিলের পর আর কোনো আলোচনা হয়নি। যেহেতু সিসিডিএমে ক্লাব সংখ্যা এখন ৭৬টি সে কারণে আমরা পরিচালক সংখ্যা বাড়ানোর দাবি আছে। ক্লাব বাড়ায় পরিচালক সংখ্যা বাড়লে কাজ করতে সুবিধা হবে। তবে বর্তমান গঠনতন্ত্র নিয়ে আপাতত আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে ক্লাব প্রতিনিধিরা বসে সিদ্ধান্ত নেব আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেটা নিয়ে।’

ঢাকার ক্রিকেটের আরেক সংগঠক সাব্বির আহমেদ রুবেল জানান, গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে কী হবে সেটা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে তার আশা, ঢাকার ক্লাব প্রতিনিধিদের দাবি মেনে গঠনতন্ত্র সংস্কার করা হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটই টিকে আছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের ওপর। তাই আশা থাকবে, ঢাকার ক্লাবকে প্রাধান্য দিয়ে গঠনতন্ত্রে সংস্কার আসবে।’ অবশ্য তার দাবিও কোনো অংশে অমূলক নয়। কারণ, বাংলাদেশের বেশির ভাগ জেলা ও বিভাগে নিয়মিত মাঠে লিগ হয় না। সেখানেই ব্যতিক্রম ঢাকার ক্রিকেট। প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে অন্য সব লিগ মাঠে গড়ায়। এ বিষয়টি বিসিবি মাথায় রাখবে বলে আশাবাদী সাব্বির আহমেদ রুবেল।

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট থেকে নির্বাচিত হওয়া বেশ কয়েকজন পরিচালক বর্তমানে বিসিবি পরিচালনা পরিষদে আছেন। তাদের মধ্যে এক পরিচালক জানান, ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটকে প্রাধান্য দিয়েই গঠনতন্ত্রে সংস্কার আনা উচিত। তবে বর্তমানে বোর্ড কিংবা ক্লাব প্রতিনিধিদের মধ্যে গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করে জানান তিনি। নতুন করে কমিটি করে গঠনতন্ত্র সংস্কারের কাজ কেন শুরু হচ্ছে না সেই প্রশ্নের জবাবে ওই পরিচালক জানান, বিষয়টি নিয়ে কেউ সেভাবে আলোচনা না করায় আপাতত গঠনতন্ত্র সংস্কার ঘোষণাতেই আটকে আছে।

বিসিবির গঠনতন্ত্র সংস্কার বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে সেটা জানতে চেয়ে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘ক্লাবগুলোর চাওয়া মেনে আপাতত গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। তবে গঠনতন্ত্র সংস্কারের বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’ কবে নাগাদ বিসিবি গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। তাতেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে হয়তো গঠনতন্ত্র সংস্কার ছাড়াই হতে পারে বিসিবির আসন্ন নির্বাচন। কারণ, নির্বাচনের জন্য হাতে খুব বেশি সময় পাচ্ছে না বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পরিষদ। ধারণা করা হচ্ছে আগামী অক্টোবরে হতে পারে বিসিবির পরবর্তী নির্বাচন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর