শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না হলে শিল্পখাতে শান্তি আসবে না: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০১ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বাসস্থান, ভাত, কাপড়, শিক্ষা ও চিকিৎসা এই ৫টি মৌলিক অধিকার সকলেরই প্রাপ্য। কিন্তু আমাদের দেশের শ্রমিক সমাজ এ ৫টি অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাদেরকে ন্যায্য অধিকার দিয়ে মানুষের মত মর্যাদার সাথে বাঁচার জন্য এ অধিকার দেয়া সরকার ও মালিক পক্ষের দায়িত্ব। এ অধিকারগুলো পাওয়া শ্রমিক সমাজের ন্যায্য অধিকার। শ্রমিক সমাজকে এ অধিকার প্রদানে

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে তার সাথে শ্রমিক সমাজের অধিকার সম্পর্কে মতবিনিময়ের জন্য আগত শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক, বিলস ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময়কালে এ বক্তব্য রাখছিলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বিলসের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আক্তার চৌধুরী, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি জনাব মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জনাব এ,এম, ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রেসিডেন্ট জনাব আনোয়ার হোসাইন ও সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জনাব মনিরুল কবির।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, মালিক পক্ষ যদি শ্রমিক সমাজের প্রতি ন্যায় বিচার করেন তাহলে শ্রমিক মালিকের মধ্যে বৈষম্য থাকবে না। ন্যায্য পাওনা পেলে শ্রমিকগণ দায়িত্বের সাথে তাদের কাজ করবে। ফলে কলকারখানায় শান্তিপূর্ণ উৎপাদনমুখী পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তাহলেই শ্রমিক ও মালিক সবাই শান্তিতে থাকবে।

ইসলামের হুকুম হলো তুমি যা খাবে তোমার অধীনস্থ লোকদের তা খাওয়াবে। তুমি যে কাপড় পরবে তাদেরও তা পরাবে। এ নীতি বাস্তবায়ন করতে পারলেই শ্রমিক ও মালিক সবাই দুনিয়াতে যেমন শান্তি পাবে, তেমনি আখিরাতেও শান্তি হবে। আদালতে আখিরাতে জবাবদিহিতার মনোভাব নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদেরকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষমতায় গিয়ে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। এগুলো বন্ধ করতে হবে।

আগামী নির্বাচনে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার পূরণের ব্যাপারে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইসতেহারে স্পষ্ট ঘোষণা থাকতে হবে।

বিলসের নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান জনাব সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ তাদের সাথে মতবিনিয় করার জন্য সময় দেয়ায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার দিয়ে শ্রমিক-মালিকের মধ্য বিরাজমান বৈষম্য দূর করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম আইন মেনে সুষম উন্নয়নের রাজনীতি চালু করতে হবে। শ্রমিকদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কারণেই কলকারখানায় ভাঙচুরের মত কর্মকাণ্ড হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার দিলেই শ্রমিক অসন্তোষ দূর হবে। জাতীয় সংসদের ভিতরে-বাইরে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারের কথা বলতে হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর