আগে সংসদে আসেন, তারপর গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬ ২২:০৩ পিএম

গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে হলে আগে সংসদে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আমরা এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করতে বাধ্য। কিন্তু সেই ১৩৩টা অধ্যাদেশের কোনটা কীভাবে গৃহীত হবে, তা জাতীয় সংসদের এখতিয়ার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, এর বাইরে আরও একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। সেই আদেশটার নাম হলো জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ। এটা ম্যাস্কুলিন না ফেমিনিন নাকি কমন জেন্ডার, আমি জানি না।’

ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার আগে আদেশ জারির এখতিয়ার ছিল, যার ভিত্তি ছিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর অর্ডিন্যান্স জারির ক্ষমতা পেলেন রাষ্ট্রপতি। সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর অর্ডারের জমানা শেষ। এখন কীভাবে রাষ্ট্রপতি অর্ডার জারি করলেন? আমরা তখন প্রশ্ন তুলেছিলাম। আমি বলেছিলাম, আমরা এই সমস্ত আরোপিত জবরদস্তি কোনও আদেশের বলে সার্বভৌম জাতীয় সংসদের কোনও ক্ষমতা খর্ব হতে দেব না। কারণ, জাতীয় সংসদের যে নির্বাচন, সেটা সাংবিধানিক নির্বাচন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমরা শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। এটা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, আমরা স্বাক্ষর করেছি। বরং যারা সমালোচনা করছে, তারা স্বাক্ষর করেছে গত কয়েক দিন আগে নির্বাচনের পর। এখন বিরোধী দল বলছে, জন-আকাঙ্ক্ষা অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হবে। আমাদের বক্তব্য ছিল, যদি গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে চাই, আগে সংসদে যেতে হবে। তারপর যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হয়, সেটা সেখানে নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু আজকে যাদের জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ানো হলো, যিনি জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ালেন, সেটা সংবিধান অনুসারে হয়েছে কি না, অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের দেখার দায়িত্ব। কারণ, বিচারকগণ শপথ নিয়েছেন সংবিধান সংরক্ষণের জন্য।’

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর