ভোটে যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে: আসিফ নজরুল

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:০১ পিএম

আইন, বিচার, ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘ আমরা অসাধারণ একটি নির্বাচন করতে চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যেই প্রার্থীকে ইচ্ছা ভোট দেব। কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় আমরা অন্যকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কোনো সমস্যা করবো না। আর যদি কেউ বাধা দেয়, তাহলে সে শেখ হাসিনা হয়ে যাবে। আমরা শেখ হাসিনা হতে চাই না। কাজেই আমরা সবার ভোটাধিকার উন্মুক্ত রাখবো।’

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করা, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত ও গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘গত তিনটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জনগণকে ভোট দিতে দেয়নি। একবার করেছে রাতের ভোট, আরেকবার করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া একক ভোট, অন্যবার করেছে আমি-ডামি ভুয়া ভোট। ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশের মানুষকে ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছিল। তারা নিজেরা নিজেদেরকে ইলেকট্রেড ঘোষণা করে বাংলাদেশের মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিল। নিজের দেশকে অন্য দেশের কাছে বিক্রি করে দিয়ে তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছিল।’

দলের স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে গণভোট মন্তব্য করে আইন উপদেষ্টা বলেছেন, আপনারা যদি চান এই দেশে থেকে বৈষম্য দূর হোক, নিপীড়ন দূর হোক, অবিচার দূর হোক, দুর্নীতি দূর হোক— তাহলে আপনি হ্যাঁ ভোট দেবেন। আর যদি আপনারা অন্যায় অবিচারের পক্ষে থাকেন, তাহলে আপনি না ভোট দেবেন। আমরা এ দেশ থেকে দুর্নীতি, অবিচার, অনিয়ম, শোষণ দূর করার জন্য হ্যাঁ ভোট দেব। বাংলাদেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের ভূমিকার কারণে আমরা একটি নতুন সময়ে উপস্থিত হয়েছি। যেখানে আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কোনোভাবেই হারানো চলবে না। ভোট দেওয়া মানে হচ্ছে আপনার সরকার আপনিই নির্ধারণ করবেন। আপনার জনপ্রতিনিধি কে হবেন, কে সংসদে গিয়ে আপনার কথা বলবেন— সেটি আপনিই ঠিক করবেন। আগে ঠিক করতো শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এখন এটি ঠিক করবেন।

আসিফ নজরুল বলেন, প্রথমবারের মতো এবার প্রবাসী ভাইয়েরা ভোট দিতে পারছেন। প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম তখন বলেছিলাম আমাদের তিনটা প্রধান কাজ। একটা হচ্ছে— সংস্কার। আরেকটি হচ্ছে— গণহত্যাকারীদের বিচার। অন্যটি হচ্ছে— নির্বাচন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়ার অধ্যক্ষ এসএম প্রকৌশলী ইমদাদুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও ছাত্র-জনতা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর