ব্যক্তির স্বৈরাচার হওয়া রোধের জন্যই আইনসভার উচ্চকক্ষ: আলী রীয়াজ

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০১ এএম

ভবিষ্যতে যেন কোনো একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়ে স্বৈরাচারের জন্ম না নেয়— সে লক্ষ্যেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বারবার ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার চর্চা হয়েছে। এর ফলেই একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যক্তি নির্ভরতার বদলে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

তিনি জানান, জুলাই সনদে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো জনগণ ও সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবার মতামতের প্রতিফলন ঘটানো।

রাষ্ট্র পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন থাকলেও গত ৫৪ বছরে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। দলীয় বিবেচনা ও ব্যক্তিগত ক্ষমতার লোভে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন রাষ্ট্র ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে আবারও ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে দায়িত্ব সরকারসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার। তিনি বলেন, আসন্ন গণভোট রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। গণভোট ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। তার মতে, জুলাই সনদ ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নিশ্চিত করাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণায় কোনো বিধিনিষেধ নেই উল্লেখ করে মনির হায়দার বলেন, এটি কোনো প্রার্থীভিত্তিক নির্বাচন নয়; বরং এটি সবার সম্মিলিত এজেন্ডা। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। তিনি গণভোট বিষয়ে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগ ও এর অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর