মরহুম রফিকুল ইসলামের স্মরণে চোখের চিকিৎসা পেলেন ২৫০ রোগী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত:
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:০৯ পিএম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরহুম মো. রফিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় আল-হিকমাহ ট্রাস্টের উদ্যোগে এবং রাজিয়া মুস্তাফা ট্রাস্টের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী বিশেষ ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়েছেন ২৫০ জন রোগী।
এ সময় ৩৯ জনের চোখে ছানি ও মাংসবৃদ্ধিজনিত জটিলতা শনাক্ত করা হয়।
২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উত্তর বালিয়াকান্দিতে এ চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। মরহুম মো. রফিকুল ইসলাম গত ৮ অক্টোবর ২০২৫ ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘদিন বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর স্মৃতিকে জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখা এবং রুহের মাগফিরাত কামনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চক্ষু ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ঢাকার ভিশন আই হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, পেডিয়েট্রিক ও ফ্যাকো সার্জন ডা. জামসেদ ফরীদি জামি। ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্যাম্প পরিচালিত হয়। ক্যাম্পে দুইজন চিকিৎসক ও একজন সাপোর্টিং স্টাফ চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এ ছাড়া এরিস্টো ফার্মার পক্ষ থেকে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
ক্যাম্পে প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষায় ৩৯ জন রোগীর চোখে ছানি ও মাংসবৃদ্ধিজনিত জটিলতা শনাক্ত করা হয়। শনাক্ত রোগীদের জন্য মরহুম মো. রফিকুল ইসলামের পরিবার এবং রাজিয়া মুস্তাফা ট্রাস্টের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।
চক্ষু ক্যাম্পের পৃষ্ঠপোষক ও মরহুম মো. রফিকুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ সন্তান নূর নেওয়াজ সুমন বলেন, আমার বাবা প্রায় এক বছর আগে, গত ৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার একজন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর রুহের মাগফিরাত ও শান্তির জন্য আমরা এই বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। মহান আল্লাহ যেন এই সেবামূলক কাজটি তাঁর পক্ষ থেকে কবুল করেন, তাঁকে ক্ষমা করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
তিনি আরও বলেন, এই আয়োজন সফল করতে যেসব চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক, আয়োজক ও সহযোদ্ধা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মানুষের উপকারে আসতে পারে—এমন যেকোনো উদ্যোগ বাবার স্মৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি মাধ্যম হয়ে থাকবে।
আল-হিকমাহ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান বলেন, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ সময়মতো চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আল-হিকমাহ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মীর শাহিনুর রফিক শাওন বলেন, আল-হিকমাহ ট্রাস্টের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। চক্ষু চিকিৎসার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনায় ছিলেন আল-হিকমাহ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মীর শাহিনুর রফিক শাওন, ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, কোষাধ্যক্ষ এস. এম. বাকী বিল্লাহ এবং উপদেষ্টা মো. আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সুমন ইসলাম, নাফিসা মেহজাবীন সেতু, মহিন উদ্দিন, কামাল হোসাইন, মো. কাউছার মিয়া এবং মীর রামজিয়া রফিক ক্যাম্পের সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা করেন।
LIMON

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: