গাজায় ‘কিছু অঞ্চল’ দখলের নির্দেশ ইসরাইলের

প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৫ ২২:০৩ পিএম

যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়ের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গাজায় ভয়াবহ স্থল হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। এরই মধ্যে নিহত হয়েছে প্রায় ছয় শতাধিক। এ অবস্থায় গাজার আরো কিছু অঞ্চল দখলে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হামাস যদি সব জিম্মিকে মুক্ত না করে তবে গাজার কিছু অংশ স্থায়ীভাবে দখল করা হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেছেন, জীবিত কিংবা মৃত উভয় জিম্মিকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত গাজায় তীব্র স্থল অভিযান চালিয়ে যাবে সেনাবাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, গাজায় এখনও আটক ৫৯ জন জিম্মির মধ্যে ২৪ জন জীবিত আছেন, তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জানুয়ারি থেকে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এই সপ্তাহে শেষ হয়েছে। কারণ এরই মধ্যে গাজায় স্থল অভিযান এবং বোমা হামলা পুনরায় শুরু করেছে। এতে নিহত হয়েছে কয়েকশ মানুষ।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা, ইউএনআরডব্লিউএ-এর স্যাম রোজ বলেছেন, গাজা জুড়ে ভয়াবহ বর্বরতা চালানো হয়েছে। যা চরম উদ্বেগজনক।

এদিকে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার জন্য হামাসকে দায়ী করেছে ইসরাইল এবং আমেরিকা। তবে হামাস জানিয়েছে, তারা ‘পূর্ণ দায়িত্ব এবং গুরুত্ব নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে’। তবে, শুক্রবার এক বিবৃতিতে কাটজ বলেছেন, হামাস যত বেশি অস্বীকৃতি অব্যাহত রাখবে, তত বেশি অঞ্চল ইসরাইলের দখলে চলে যাবে। এদিকে, গাজার একমাত্র বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। তুরস্কের সহায়তায় নির্মিত সেন্ট্রাল গাজায় অবস্থিত এই হাসপাতালটিতে বোমা হামলা চালায় তারা। এতে নিহত হয় ৫ শিশু। মধ্যাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তুর্কি-ফিলিস্তিনি মৈত্রী হাসপাতালটি ধ্বংস করায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে আঙ্কারা। এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হামলাকে জঘন্য অপরাধ বলে নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস ইসরাইলের নতুন আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এই সপ্তাহেই ২০০ জনেরও বেশি শিশু এবং ১১০ জনেরও বেশি নারী প্রাণ হারিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ওসামা তাবাশ। এমনটাই দাবি করে এক বিবৃতিতে ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ২০ মার্চ দক্ষিণ গাজায় বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। সে সময়ই নিহত হন তাবাশ।

গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা ভূখণ্ডে নতুন আক্রমণ শুরুর পর যৌথভাবে এ আহ্বান জানান তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। একই সঙ্গে তারা গাজায় ত্রাণ সরবরাহ চালু করতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিন মন্ত্রী জার্মানির আনালেনা বেয়ারবক, ফ্রান্সের জিন-নোয়েল ব্যারোট এবং ব্রিটেনের ডেভিড ল্যামি-যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ রূপে বাস্তবায়িত এবং যাতে স্থায়ী হয় তা নিশ্চিত করার জন্য সব পক্ষকে পুনরায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর