মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে ইসরায়েলে গিয়ে নেচেছেন মোদি

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত নথি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সদ্য প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ বলা হচ্ছে, ২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাকি এপস্টেইনের পরামর্শ নিয়েছিলেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে মোদি ইসরায়েলে গিয়ে নেচেছেন ও গেয়েছেন বলেও বলা হচ্ছে।

যদিও এ দাবিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট বলছে, ২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরের আয়োজন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টেইনের পরামর্শ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। শনিবার প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে সামনে আসা একটি ই-মেইলের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

ই-মেইলটিতে যৌন অপরাধে দণ্ডিত ও বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী এপস্টেইন দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে মোদি তার পরামর্শ মেনে ইসরায়েল সফর করেছিলেন। এপস্টেইনের ওই ই-মেইলে লেখা হয়, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি পরামর্শ নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে তিনি ইসরায়েলে গিয়ে নেচেছেন-গেয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ আগেই তাদের দেখা হয়েছিল। এতে কাজ হয়েছে।’

এদিকে এই দাবির কড়া সমালোচনা করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের বিষয়টি ছাড়া ই-মেইলে থাকা বাকি ইঙ্গিতগুলো একজন দণ্ডিত অপরাধীর ভিত্তিহীন ও রুচিহীন কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। এসব সম্পূর্ণ অবজ্ঞার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।’

তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ইসরায়েল সফর করেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটি ছিল ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সে সময় এমনটাই জানানো হয়েছিল।

ওই সময় ভারত ও ইসরায়েল তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছিল। দুই দেশ ১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া এক আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এপস্টেইন-সংক্রান্ত চূড়ান্ত নথিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর