জীবন কখনো হিসাব–নিকাশ মেনে চলে না: অপু বিশ্বাস
ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস। দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। গতকাল ছত্রিশ পূর্ণ করে সাঁইত্রিশ বছর বয়সে পা রেখেছেন এই অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত জীবনে নানারকম চড়াই-উৎড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। জীবনের এ পর্যায়ে জীবন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
জীবন হিসাব-নিকাশ মেনে চলে না বলে মত অপু বিশ্বাসের। তিনি বলেন, “জীবন কখনো হিসাব–নিকাশ মেনে চলে না। পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, জীবনে যা কিছু ঘটেছে, প্রতিটি অধ্যায়ই সুন্দর ছিল। যেভাবে জীবন এগিয়েছে, সেভাবেই হয়তো সবকিছু হওয়ার কথা ছিল। হিসাব মিলিয়ে জীবনকে চালানো যায় না, জীবন তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে চলে।”
অপুর বিশ্বাস—জীবনের প্রতিটি ঘটনাই কিছু না কিছু শেখায়। এ অভিনেত্রীর ভাষায়, “পেছনে যা হয়েছে, বর্তমানে যা হচ্ছে কিংবা সামনে যা ঘটবে—সবকিছুই হয়তো আমার জন্যই প্রস্তুত করা ছিল। আমি বিশ্বাস করি, জীবনে যা আসে, তা থেকে কিছু না কিছু শেখার থাকে। তাই অতীতের কোনো কিছু না ভেবে জীবন যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”
অপু বিশ্বাস তার নিজের সম্মান বজায় রাখতে শতভাগ সচেষ্ট। তা স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি সব সময় সেলফ রেসপেক্টে একটু ফোকাস করে এসেছি। কারণ আমি মনে করি, যখন আমার নিজেকে সম্মানিত করব, তখন অন্যরাও আমাকে সম্মান দেবে। এ জন্য আমার কাছে অলওয়েজ নিজের সম্মানটাকে বজায় রাখার চিন্তা প্রায়োরিটিতে থাকে, একদম হানড্রেড পার্সেন্ট।”
ব্যক্তিজীবনে টানাপড়েন না থাকলে মানুষ নিজেকে গড়তে পারে না বলে মত অপু বিশ্বাসের। তার ভাষায়, “জীবনে অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জের টাইম এসেছিল, সন্তান জন্মের পর। ঠিক তারপর থেকেই আমার মনে হয়েছে, জীবনটা আমাকে আজ অপু বিশ্বাস হওয়ার জন্য অনেক বেশি সাপোর্ট করেছে। কারণ ব্যক্তিজীবনে টানাপড়েন না হলে কোনো মানুষই নিজেকে পরিপূর্ণভাবে গড়তে পারে না। জাস্ট ওই সময়টুকু আমাকে শক্ত ও পরিপূর্ণ করতে অনেক বেশি সহযোগিতা করেছে।”
বাবা উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও মা শেফালী বিশ্বাসের তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে অপু বিশ্বাস সবার ছোট। ১৯৮৩ সালের ১১ অক্টোবর বগুড়ার সদর উপজেলার সাতমাথা এলাকার কাকনারপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। মায়ের উৎসাহেই মূলত নাচ শিখতে শুরু করেন অপু। হাতেখড়ি বগুড়ার বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে।
অপু বিশ্বাস শিক্ষাজীবন শুরু করেন বগুড়ার এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুলে। তারপর আলোর মেলা কেজি স্কুল থেকে প্রাইমারি ও ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এসএসসি পাস করেন। পরে সরকারি মুজিবুর রহমান কলেজে ইন্টারমিডিয়টে ভর্তি হন।
অপু বিশ্বাস পরিবারের সবার কাছে মেঘা নামে পরিচিত। তবে ঢাকাই চলচ্চিত্রে তার পরিচয় অপু বিশ্বাস নামেই। ক্লাস নাইনে পড়া অবস্থায় নৃত্যাঞ্চল আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দশম হন অপু। অভিনয়শিল্পী আহসানুল হক মিনুর মাধ্যমে যোগাযোগ হয় গুণী নির্মাতা আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। ২০০৪ সালে এই পরিচালকের ‘কাল সকালে’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। তখন অপু বিশ্বাস নবম শ্রেণির ছাত্রী।
২০০৬ সালে এফ আই মানিক পরিচালিত ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমায় প্রধান নায়িকা হিসেবে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেন অপু। সিনেমাটি ব্যবসা সফল হওয়ার পর অপুকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রাতারাতি তারকা বনে যান তিনি। শাকিব খানের সঙ্গে অপু বিশ্বাসের জুটি দর্শকদের মাঝে দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পায়।
২০০৭ সালে মান্নার বিপরীতে ‘মেশিনম্যান’ সিনেমা, শাকিব খানের বিপরীতে ‘কাবিননামা’ সিনেমায় অভিনয় করেন অপু। এই জুটি একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করতে থাকেন। তাদের অভিনীত সিনেমার তালিকায় রয়েছে—‘পিতার আসন’, ‘চাচ্চু’, ‘দাদিমা’, ‘মিয়া বাড়ির চাকর’, ‘জন্ম তোমার জন্য’, ‘মায়ের হাতে বেহেশতের চাবি’, ‘তোর কারণে বেঁচে আছি’, ‘কিং খান’, ‘বুক ফোটে তো মুখ ফোটে না’, ‘তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা,’ ‘মনে প্রাণে আছ তুমি’, ‘ভালোবাসার লাল গোলাপ’, ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’, ‘জান আমার জান’, ‘মনে বড় কষ্ট’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘সম্রাট’, ‘রাজনীতি’ প্রভৃতি।
২০০৬ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অপু–শাকিব জুটি একাধারে ৭০ টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেন। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বাস্তবজীবনে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তারা। শাকিব খানের বাইরে অপু পর্দায় জুটি বেঁধেছেন মান্না, ফেরদৌস, রিয়াজ, আমিন খান, অমিত হাসান, ইমন, কাজী মারুফ, নীরব, কলকাতার ইন্দ্রনীলের সঙ্গে।
অপু বিশ্বাস ২০০৮ সালে ১৮ এপ্রিল গোপনে শাকিব খানকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা কেউই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি। ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল, বিকেলে একটি লাইভ টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শাকিব খানের সঙ্গে তার বিয়ের কথা প্রকাশ করেন। আব্রাম খান জয় এ দম্পতির একমাত্র সন্তান। ২০১৮ সালের ১২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে শাকিব ও অপুর বিবাহিত জীবনের অবসান ঘটে।
LIMON

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: