পায়রা বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির বিষফোড়া: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

পায়রা বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বিষফোড়া। এখানে সমুদ্র বন্দর দূরের কথা, নদীবন্দরও করা সম্ভব না। এটা নদীবন্দরও না, এটি একটি ঘাট। রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বন্দরটি প্রাথমিকভাবে করা হয়েছিল কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য। প্রকল্পটির শুরুতেই যদি লাভ-ক্ষতির বিষয়টি মূল্যায়ন করা যেত তাহলে এ প্রকল্প শুরুই করতাম না। কিন্তু এখন অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে।
রোববারের একনেক সভায় পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন পায়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ৯১১ কে সংবাদ সম্মেলনে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমরা পায়রা বন্দরের প্রকল্পটি বন্ধ করতে চাইলেও পারবো না। কারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অনেক খরচ করা হয়েছে। এখন পাস হলেই ব্যয় করতে পারবো- এ সিস্টেম আর নাই। এটি খারাপ প্রকল্প হলেও বাদ দিতে পারতাম না, কারণ এটি করা হয়েছিল প্রাথমিকভাবে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা আনার জন্য।
এ অর্থনীতিবিদ বলেন, এ বন্দরের কারণে অনেক জমি নষ্ট হয়েছে। সুন্দরবন ধ্বংস হয়েছে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে হলে কয়লা আনতেই হবে।
এটি কোনো সমুদ্রবন্দর নয় উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এটিকে বলা হয় সমুদ্রবন্দর। কারণ এখানে কোনো জাহাজ আসতে পারে না। তাহলে তো নদীবন্দর বলা যায়। যারা দেখে এসেছেন, তারা বলেছেন এটি নদীবন্দরও না এটি একটি ঘাট।
একনেক সভায় ২১ হাজার ১৩৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এরমধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৪ হাজার ১৯৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ছয় হাজার ৫৩৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪০৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
এ বছর ১০টি নদী রক্ষায় একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নদী বাঁচাতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প হবে। বগুড়ার করতোয়া নদী, উত্তরবঙ্গের আহত নদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীসহ অনেক মৃতপ্রায় নদীকে বাঁচানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার একনেক সভায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এ প্রকল্পটি আমরা পর্যবেক্ষণের আওতায় রেখেছি। শিক্ষার্থীদের খাবার যাতে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের ঘরে না যায়, শিক্ষকদের ঘরে না যায়। এটি উপজেলাগুলোতে ইউএনওর দেখভাল করবেন।
একনেক সভার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, স্বরাষ্ট্র এবং কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, খাদ্য এবং ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো: নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প- চট্টগ্রাম মহানগরীর কালুরঘাট এলাকায় পয়ঃশোধনাগার নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প ফেজ-৩ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কানেকটিভিটি শক্তিশালীকরণে সুইচিং ও ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প; সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধন) প্রকল্প।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্প; শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্প; খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সারাদেশে অবস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্য গুদাম এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক অবকাঠামোর মেরামত ও সংস্কার প্রকল্প; ভূমি মন্ত্রণালয়ের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত রেকর্ড রুমসমূহ সংস্কার ও মেরামত প্রকল্প; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রভেন বুল তৈরি প্রকল্প এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভৌত সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: