ঈদ শেষে ট্রেনযাত্রায় জনস্রোত, ছাদে চড়ে ঢাকায় ফিরছেন যাত্রীরা

প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৫ ২১:০৪ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ঢাকামুখী কর্মজীবী মানুষের জনস্রোত লক্ষ্য করা গেছে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে। এ সময় ট্রেনের ভেতরে ঠাঁই না পেয়ে ছাদে চড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে হাজারো যাত্রীদের। এ যেন ঈদ ছুটি শেষে কাজে ফেরার যুদ্ধ।

শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দেখা গেছে ঢাকামুখী কর্মজীবীদের এই জনস্রোত।

এ সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে অবস্থান নেওয়া যাত্রীদের বার বার সর্তক করতে দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ও নিরাপত্তা কর্মীদের। কিন্তু জীবনের তাগিদে প্রশাসনের এই সর্তক বার্তায় সাঁড়া না দিয়ে কয়েক হাজার যাত্রী ঢাকার পথে ছুটতে দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ঠরা জানান, এবার ঈদের লম্বা ছুটি শেষে আগামীকাল রোববার সকাল থেকে শুরু হচ্ছে সরকারি-বেসরকারিসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের কর্মযজ্ঞ। ফলে যথা সময়ে কাজে ফিরতে আগেভাগেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে ছুটছে মানুষ। এক্ষেত্রে সড়ক পথে বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কারণে ট্রেন পথে ভিড় বেড়েছে নিন্ম ও মধ্যবিত্ত কর্মজীবীদের। তারা অল্প খরচে ঢাকায় ফিরতে ভরসা রেখেছেন ট্রেন যাত্রায়। আর এ কারণে আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ময়মনসিংহের লোকাল ট্রেনগুলোতে ঢাকামুখী যাত্রীদের জনস্রোত ছিল বেসামাল।

জানতে চাইলে দেওয়ারগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের যাত্রী মোহাম্মদ আলী ও শুকুর মাহমুদ বলেন, ঈদের ছুটি শেষ, হাতের ঢাকাও কমে গেছে। তাই একটু কষ্ট হলেও অল্প খরচে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় ফিরছি।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা পোশাক শ্রমিক মো. আরাফাত জানান, ঈদের পর বাসে ভাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঢাকার যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ কারণে ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ের স্টেশন সুপারিনডেটেন্ট মো. নাজমুল হক খান এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আজ দিনভর ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকামুখী লোকাল কমিউটার ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের চাপ ছিল উপচে পড়া। এই ট্রেনগুলো হল-বলাকা, দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার, জামালপুর কমিউটার এবং মহুয়া এক্সপ্রেস।

তিনি আরো জানান, লোকাল ট্রেনগুলোতে সাধারণত নিন্ম ও মধ্যবিত্ত আয়ের যাত্রীরা চলাফেরা করেন। এ কারণেই ঈদ ছুটি শেষে স্বল্প খরচে ঢাকায় ফিরতে এই লোকাল ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এ সময় শত শত যাত্রী ট্রেনের ভেতরে ঠাঁয় না পেয়ে ছাদে চড়ে ঢাকায় যাচ্ছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের ছাদে উঠতে বার বার সর্তক করা হয়েছে। অনেককে ছাদ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে কিন্তু অন্য পাশ দিয়ে তারা আবারও ছাদে উঠেছে। তবুও আমরা মাইকিং করে যাত্রীদের ছাদে না উঠতে সর্তক করেছি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর