জুলাই আন্দোলনে আহত হৃদয়ের মৃত্যু
আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫ ৯:২৫ এএম

পটুয়াখালীর বাউফলে জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হৃদয় হোসেন (১৭) মারা গেছেন। শুক্রবার বিকালে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
চিকিৎসার অভাবে হৃদয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা আনসার হাওলাদার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা সদর ইউনিয়নের জৌতা গ্রামের অটোরিকশা চালক আনসার হাওলাদারের ছোট ছেলে হৃদয় হোসেন ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। ৮৭নং ওয়ার্ডের মীর হাজীরবাগ মাওলানার বাড়ির মেসে থাকতেন তিনি। গত বছরের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার সামনে আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি পুলিশের গুলিতে আহত হন। দীর্ঘ ৩ মাস তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে গ্রামের বাড়ি চলে আসেন তিনি।
দরিদ্র বাবা তার উপার্জনের একমাত্র সম্বল অটোরিকশা আর একটি গাভী বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করান। এক পর্যায়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন হৃদয়। বৃহস্পতিবার হৃদয়কে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
হৃদয়ের বাবা আনসার হাওলাদার বলেন, আমার ছেলের মাথায়, হাতে ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়। ছেলের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে পারিনি। চিকিৎসার পেছনে সবটুকু সম্বল হারিয়ে আমি এখন দিশেহারা।
বাউফল সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হারুন অর রশিদ বলেন, ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন পরিবারের সদস্যরা। শনিবার সকালে জানাজা শেষে হৃদয়ের লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।
বাউফল থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে জুলাই আন্দোলনে আহত কেউ মারা গেছে তা জানায়নি। তবে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হৃদয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: